Subscribe To The Perspectives

Sunday, September 25, 2016

গল্পের নাট্যরূপ : ঋত্বিক ঘটকের ছোটগল্প 'ভূস্বর্গ অচঞ্চল ' অবলম্বনে / Dramatisation of a story : 'The Serene Paradise on Earth' by Ritwik Ghatak (Class XII Bengali Project Under WBCHSE Board)

The story,rather the portrayal of one of the most breathtaking moments that has repeated itself mercilessly innumerable number of times across the verge of this wide world is the subject to internationally acclaimed film director and author Ritwik Ghatak's 'Bhusworgo Ochonchol.'The phrase translates to something like 'The Serene Paradise on Earth' and revolves around the deprivation of Kashmiri civilians who fought and are tirelessly fighting for their freedom,constantly defying curfews,pellets and shotguns for the last six decades (that's more than half a century!).
In the name of Azaadi,to all those who have laid their lives for this cause.

দৃশ্য 1 

[পর্দা সরে যায়।স্টেজের উপর দেখা যায় পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে সরু রাস্তা গেছে,পাশে বিবর্ণ কিছু সাইনবোর্ড,রাস্তায় উল্লসিত হানাদারের দল (যাদের হাতে বন্দুক) এবং দূরে দুর্নিরীক্ষ্য তুষারাবৃত পর্বতশিখা দেখা যাচ্ছে।রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আফ্রিদি ও মোমেনদের দল...তাদের পায়ের বুটের আওয়াজটা প্রতিদ্ধনির মতো শোনাচ্ছে,বোঝা যাচ্ছে গত রাতে তুষারপাত হয়েছে সেখানে।কিছু কাশ্মীরি মানুষ ছেঁড়া সালোয়ার আর মোটা কম্বল নিয়ে রাস্তার ধারে জড়ো হয়।
কিছু দূরে দেখা যায় গলায় ধসে যাওয়া একটা বাড়ির অংশ,একটা ক্ষীণ সন্তুরের আওয়াজ ভেসে আসতে থাকে পটভূমিতে গোটা সময়টা জুড়ে এবং লুঠ হওয়া মেওয়ার দোকানের পাশে হাতে দড়ি-বাঁধা অবস্থায় একজন মধ্য তিরিশের কাশ্মীরি যুবক গোটা ঘটনাটা প্রত্যক্ষ করে,এই প্রথম আলোর রশ্মি প্লাবিত করে মঞ্চের সেই অংশ যেখানে যুবক বসে আছেন এবং আমরা তাকে ভালো করে দেখতে পাই
তার পাশে বসে আছে একজন ছোটোখাটো,রোগা,বয়স্ক মানুষ। সে তার হাঁটু দুটোর মাঝখানে মাথা রেখে কাঁপছে,ছেঁড়া কম্বলে যারপরনাই শীত মানছেনা বোঝা যায়।]

দৃশ্য ২ 


ব্যাকস্টেজ থেকে কথকের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে - এবং তার কথা অনুযায়ীই আলোর ব্যবহার দিয়ে দর্শকদের ঘটনাটার আভাস দেওয়া হয়...রাত থেকে ভোর হচ্ছে এরকম একটা সময়ে গোঙানির আওয়াজ শুনে এগিয়ে যান আমাদের গল্পের নায়ক,যাকে দড়ি বাঁধা অবস্থায় আমরা বসে থাকতে দেখেছি প্রথমেই।আওয়াজটাকে অনুসরণ করে তারা আরো এগিয়ে গিয়ে একটি নয়ানজুলিতে পড়ে থাকতে দেখেন একজন মহিলাকে।তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো সে সন্তানসম্ভবা,শীতে তার ঠোঁট দুটো নীল হয়ে এসেছে এবং অনাবৃত,অর্ধমৃত দেহটা পড়ে আছে ঠিক রাস্তার মাঝখানে।
মকবুল : এ...এ কি!

চাচা [যে রোগা,ছোটোখাটো বয়স্ক মানুষটিকে আমরা প্রথমে দেখলাম]: সন্তানসম্ভবা ছিল। আর কিছুই যে করার নেই। 

[মকবুল অদ্ভুত দৃষ্টিতে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকে খানিকক্ষণ।]

ফৌজ : মেয়েটির দিকে তাকিয়ে কুৎসিত ভঙ্গি করেন দুজন। সকলে পশুর মতো হেসে ওঠে। 

[  মকবুল আরেকবার সকলের দিকে সেই দৃষ্টিতে  বিদ্ধ করে দর্শকের আবেগকে।]


কথকের মাধ্যমে আমরা একটি মাত্র বাক্যই শুনি এই দৃশ্যের শেষে - "আজাদ কাশ্মীরই বটে।এতে ব্রিটিশ আমেরিকান সৈন্যরা আছে,পাকিস্তানিরা আছে,উপজাতি আছে,নেই শুধু কাশ্মীরি।বেশ মজার বিষয়।"


দৃশ্য 3 



[আমরা আবার ফিরে আসি প্রথম দৃশ্যপটে। আবার বিষন্ন সুরে সন্তুরটা বাজে কিছুক্ষন।

চাচা (রোগা,ছোটোখাটো,বয়স্ক লোকটি) নিজের হাঁটুদুটোর মধ্যে মাথাটা রেখে বেশ ভালো ভাবে কাঁপছেন।]



মকবুল : আহমদজান,কাঁদছেন নাকি?


চাচা : কই,না তো।

[মকবুল লোকটার দিকে তাকিয়ে ভালো করে দেখে।]

মকবুল : ভয় পাচ্ছেন?

চাচা : কবে আসবে সরকারি বাহিনী এখানে?

মকবুল : যবে আসার আসবে,মরতে আমাদের হবেই চাচা। আর যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করবেননা ,ও নিয়ে আপনি আদৌ কিছুই বোঝেননা,গেরিলা যুদ্ধ স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ  করলেন এতদিন,নিদেন পক্ষে অন্তত ক্লিউশিন চালানোটা তো শিখে নিতেন!

চাচা :  আমি ওকথা বলছিনা। 

মকবুল : তবে?

চাচা : বলছি শেব-ই-কাশ্মীর একদিন এখানে আসবে তো? এরা হটে যাবে তো? 

মকবুল : নিশ্চই,চাচা। আমরা এই পশুদের হাত থেকে কাশ্মীরকে রক্ষা করব,একজন সত্যিকারের কাশ্মীরি বেঁচে থাকতে লড়াই চলবে। 

[চাচা আবার হাঁটুর মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে থাকেন।রাস্তায় হানাদাররা টহল দিতে থাকে রোবটের মতো। কিসের যেন অর্থহীন গর্ব তাদের,মস্তিষ্ক বলে কিছু নেই। খানিক বাদে ক্যাপ্টেন এসে হাজির হন এবং চাচার ডাক পড়ে।]

ক্যাপ্টেন : কি চাচা,আপনিই কি....?

চাচা : হ্যাঁ,আমিই।

ক্যাপ্টেন : বেশ।দেখছেন তো কেমন করে অর্থ জোগাড় করছি আমরা? আপনি কিন্তু দলের লোকেদের কোথায় কোথায় অবস্থান সেটা একটু বলে দেবেন।আমরা তোমায় বেকসুর খালাস করে দেব,বুঝলে?
[ফৌজের লোকগুলো হেসে ওঠে,ঠিক সেই ধর্ষিতা মহিলাকে দেখার পরে যেমন করে হেসেছিলো আজাদ কাশ্মীরের সৈন্যরা।]

চাচা : বলুন...

ক্যাপ্টেন : হিন্দু রাজা আর হিন্দুস্থানীর ধোঁকা খেয়ে খেয়ে তো জিনা হারাম হয়ে গেলো,এবারে একটু সাহায্য করুন পাকিস্তানিদের।
শোনো,শোনো।বহু টাকা পাবে,প্রাণেও বেঁচে যাবে।শুনছো? আব্দুল্লার দলের পরাজয় হবেই।

চাচা : কুত্তা,শের-ই-কাশ্মীর এখানে আসবেই।
[বলে ক্যাপ্টেনের মুখে থুতু ফেলেন তিনি।
ক্যাপ্টেনের সৈন্যরা রাইফেল তাক করে এগিয়ে আসেন,ক্যাপ্টেন রাগে লাল হয়ে মুখ মোছেন রুমালে।তারপরে ক্যাপ্টেন এগিয়ে এসে টুঁটি টিপে ধরেন তার অর্ধেক উচ্চতা এবং দ্বিগুন বয়সের মানুষটার।]

চাচা : আসবেই।

[ক্যাপ্টেন সৈন্যদের ইশারা করে কিছু একটা আনার জন্য।পরক্ষনেই তারা একটা দরজার পাল্লা নিয়ে এসে হাজির হয় এবং সেটা চাচার বুকের উপর রাখা হয়।সেই পাল্লাটার উপরে উঠে হাঁটতে শুরু করে চারজন সৈনিক।]

ক্যাপ্টেন (মকবুলের প্রতি) : কি,ঠিক করিনি?

মকবুল : তুমি...!

 চাচা ফের বলে ওঠেন : আসবেই।

[কিছুক্ষনের মধ্যেই চাচার নাক দিয়ে মুখ দিয়ে চাপ চাপ রক্ত বেরোতে শুরু করে এবং সে মারা যায়।]

ক্যাপ্টেন এগিয়ে আসে মকবুলের দিকে।

ক্যাপ্টেন : কি,তাহলে তুমিই তো জীবিত সর্দার,তাই না?

মকবুল : আমি,ইয়ে...

ক্যাপ্টেন : ন্যাশনাল কনফারেন্সে বক্ত্রিতা দিয়ে আসা নেতা!মকবুল শেরওয়ানি! আদাব হ্যায়,সাহাব।
বক্ত্রিতা দিয়েছিলে তো,সেদিন?

মকবুল : ইয়ে,মানে...ওই যে সেদিন জিন্নাহ সাহাব বক্ত্রিতা দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছিলেন,তাকে আটকাতেই তো...গোটা কাশ্মীর জানে,এই বড়মুলাই একমাত্র জায়গা যেখান থেকে উনি ভয় পেয়ে পালিয়েছেন।

[মৃদু হেসে ক্যাপ্টেন চলে যান এবং যাওয়ার আগে সৈন্যদের গোলায় বিদ্ধস্ত বাড়িটার দিকে নির্দেশ করে কিছু বলেন।]


দৃশ্য 4 

[ মকবুলকে ওরা টানতে টানতে নিয়ে যায় ভাঙা বাড়িটার কাছে।যেতে যেতে সে দেখে আহমদজানের (চাচা) মৃতদেহটা পড়ে আছে পাশেই।]


মকবুল (আপন মনে) : লোকটা...লোকটা এতটা সাহস পেলো কোথাথেকে? এ পর্যন্ত যুদ্ধের কিছুই জানতনা,চিরকাল নির্বিবাদী,ভীতু,লাজুক স্বভাবের ঐটুকু ছোট্টোখাট্টো মানুষটা...এত মনের জোর পেলো কোথাথেকে?সেলাম চাচা,সেলাম।একদিন হিন্দুস্থান,একদিন সমগ্র কাশ্মীর তোমায় সেলাম জানাবে।আজ এই অক্টবরের সকালে না হয় পড়ে আছো এই ভেজা,নোংরা রাস্তায়...একদিন সবাই ঠিক বলবে "সেলাম আহমদজান।

[কিচ্ছুক্ষণের মধ্যেই সৈন্যরা সেখানে কতগুলো গজাল,তক্তা এবং একটি হাতুড়ি নিয়ে আসে ক্যাপ্টেনের নির্দেশে।]


ক্যাপ্টেন : দ্যাখো মকবুল,তুমি ন্যাশনাল কনফারেন্সে বক্ত্রিতা দেওয়া নেতা।তোমার কথার একটা মূল্য আছে।বীর কে তো বীরই চিনতে পারে।কোনো কষ্ট হবে না।
আচ্ছা মকবুল,তুমি তো ওই লোকটার মতো বোকা নও,মুখে থুতু ছেটাবে না তো? তুমি তো বুঝতে পারছো,আমি বলছি...তোমার কোনো কষ্ট হবে না,কনস্টেবলের চাকরিও দেওয়া যায়! তোমার কোনো দুঃখ থাকবেনা।মকবুল শেরওয়ানি,কত লোকইতো যোগ দিয়েছে আজাদ কাশ্মীরে।

মকবুল : আমি..

ক্যাপ্টেন : বলো,বলো "আজাদ কাশ্মীর জিন্দাবাদ!"

মকবুল : এই তো বলছি,"আজাদ কাশ্মীর মুর্দাবাদ!"

ক্যাপ্টেন : বীরত্ব দেখানোর চেষ্টা করছো? বেশ,বেশ...এই,লাগাও।

[গজালের তীক্ষ্ণ দিকটা হাতুড়ির আঘাতে ঢুকে যায় নরম মাংসে।সাধারণ কাশ্মীরিরা এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে সরে যায় রাস্তা থেকে।রক্ত গড়াতে থাকে তক্তা দিয়ে।]

মকবুল : কাশ্মীর সরকার জিন্দাবাদ! 

[ক্যাপ্টেন সহ্য না করতে পেরে এসে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করেন মকবুলকে।তার চোখের একটা দিক ফুলে যায়।]

ঘোরের মধ্যে সে আবার বলে : "শের-ই-কাশ্মীর জিন্দাবাদ!"

ক্যাপ্টেন : লাগাও,অপেক্ষা কোরো না!

সেপাই (ইতস্তত করে) : ও যে মরে যাচ্ছে! 

ক্যাপ্টেন : আমিও তো তাইই চাই! এরকম যন্ত্রনাই তো দিতে চাই!
[ক্যাপ্টেন আবার এলোপাথাড়ি মার শুরু করেন অন্যদিক থেকে।মাথায় আর যন্ত্রনা হচ্ছেনা,স্নায়ুগুলো অসাড় হয়ে এসেছে মকবুলের। ]

তবু সে মনের জোরটুকু সম্বল করে আবার বলে : "আজাদ কাশ্মীর দল মুর্দাবাদ!"

 [একটার পর একটা গজাল দেহে ঢুকতে থাকে।]

মকবুল : পাহাড় চূড়া টা কি অপূর্বভাবে আলোকিত! কি সুন্দর এই উপত্যকা! ওই চেনার গাছগুলো,বরফে ঢাকা...আঙুরের বাগানগুলো আঙুরে ভরে যাবে আবার।বসন্তের সঙ্গে আসবে সেনাবাহিনী।দলে দলে,কাতারে কাতারে লোক বন পেরিয়ে,নদী পেরিয়ে,পাহাড় ডিঙিয়ে উপত্যকার মধ্যে দিয়ে পথ করে আসবে...
তাদের পুরোভাগে ছয় ফুটের উপরে লোবা এক সুদৃঢ় পুরুষ - কাশ্মীরের বাঘ।তাঁর সামনে কুকুরগুলো ভেসে যাবে।নতুন কাশ্মীর গড়ে উঠবে,তাঁর স্বপ্নের কাশ্মীর...
পায়ের তলায় পড়ে থাকা কাশ্মীর নয়,জনগণের ভূস্বর্গ কাশ্মীর...ভূ-স্বর্গ...
"আগার ফিরদৌস বারোয়ে জমিন-অস্ত
হামিনাসতো হামিনাসতো হামিনাস্ত..."
[তাঁর মাথাটা কেমন অদ্ভুত ভাবে এলিয়ে পড়ে একদিকে।]

ক্যাপ্টেন (কিছুক্ষন পরে) : মরে গেছে।নামিয়ে ফেলো।

বহুদূরাগত একটা শব্দ কানে আসতে জড়তা কাটিয়ে উঠে মকবুল বলে : "শেখ আব্দুল্লাহ জিন্দাবাদ! কাশ্মীর জিন্দাবাদ!"

[ক্যাপ্টেন হাঁপিয়ে উঠেছে।হতাশভাবে ভাঙা সিঁড়ি দিয়ে নেমে গিয়ে প্রতীক্ষারত সৈনিকদের হুমকি দিয়ে সিগারেট ধরায় সে।এ সবই আবছা দেখতে পান মকবুল শেরওয়ানি।পৃথিবী ক্রমশই সংকুচিত হয়ে আসছে তাঁর মরণোম্মুখ দৃষ্টিতে।জীবনটা ছায়া ছবির মতো দেখতে পায় সে..আর দূর থেকে আবার সন্তর বেজে ওঠে মৃদু,বিষন্ন সুরে। ]

মকবুল : কি সুন্দর! কি সুন্দর...পাহাড়চূড়ায় সূর্যোদয়...সূর্যোদয়..হোক...

[হাবিলদারের হুকুমে তেরো রাউন্ড গুলি চালানো হয়।সন্তরের আওয়াজ এবার প্রকট হয়,পর্দা নেমে আসে।]




Share this PostPin ThisShare on TumblrShare on Google PlusEmail This

No comments:

Post a Comment

What are your perspectives?

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Click to get your copy of 'The Big Question Manifesto'!

Got A Doubt? Or A Suggestion?Talk To Us!

Name

Email *

Message *